কমলগঞ্জ উপজেলায় অব্যাহতভাবে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে নেওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও মাটি কাটা ও পরিবহনের এই অবৈধ কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর এলাকার খুশালপুর, শমশেরনগর , আদমপুর, মুন্সীবাজার, আলীনগর , রাজদীঘিরপাড়সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের আবাদি জমি থেকে পরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র জমির মালিকদের নগদ অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমির উপরের উর্বর স্তর কেটে নিচ্ছে। এসব মাটি নতুন বসতবাড়ি নির্মাণ, ভরাট কাজ ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সরবরাহ করা হচ্ছে। লাভের আশায় মাটি ব্যবসায়ীরা এই অবৈধ কার্যক্রমে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

দিনের আলো থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মাটিবাহী ট্রলি ও ট্রাক্টরের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। উন্মুক্তভাবে মাটি পরিবহনের কারণে আশপাশের এলাকায় ধুলাবালু ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ভারী যানবাহনের চাপে গ্রামীণ সড়কগুলোর অবস্থাও দিন দিন নাজুক হয়ে পড়ছে।

কৃষক সুনিল দেবনাথ , জলাল মিয়া সিকন্দর আলী জানান, লাগাতারভাবে কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ায় ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এতে শুধু কৃষকের ক্ষতি নয়, দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। তারা বলেন, কৃষিজমি সুরক্ষা আইন থাকলেও এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন,িুঝ কৃষিজমির উর্বর মাটি কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এই অবৈধ মাটি ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন ভূমিকা জরুরি।