বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ৮ বন্ধুর ‘বিনা লাভের বাজার’, রমজানে স্বস্তি নিম্নআয়ের মানুষের কমলগঞ্জে ১০৩ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার কমলগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা: মাদক ও গ্রামভিত্তিক অপরাধ দমনে সমন্বিত পদক্ষেপের নির্দেশনা ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’: পিলখানার হত্যাযজ্ঞ স্মরণ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারে ৬ নং ওয়ার্ডের প্রার্থী সেলিম আহমেদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত ভিসা দ্রুত চালুর উদ্যোগ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কমলগঞ্জে তরুণদের পাশে মুঈদ আশিক চিশতী পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিপুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি নবনির্বাচিত এমপি মুজিবুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধনা

বাবেলের নেতৃত্বে শমশেরনগর চা-বাগানে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

রিপোটার : / ১৬২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের শমশেরনগর চা-বাগানের দীর্ঘ ৫৪ বছরের রাজনৈতিক রীতি ভেঙেছে। এক সময় যেখানে এলাকার রাজনৈতিক বলয় বলতে বোঝাতো একক শক্তি, সেই পরিবেশে এবার ধানের শীষের প্রতীকের জন্য ভোট সংগ্রহে সৈয়দ ইসতিয়াক উদ্দিন বাবেলের অবদান নজরকাড়া। মাঠে তার সক্রিয় উপস্থিতি, শ্রমিক ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ, এবং সংগঠিত প্রচেষ্টা এমনভাবে কাজ করেছে যে পুরো সমীকরণ যেন অন্য রূপে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, “বাবেল যা বলেন, চা-বাগান তা শুনে। এবার মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছে।” এই সাড়া শুধু প্রতীকী নয়; ভোটের মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, পাঁচটি চা-বাগান,শমশেরনগর, কানিহাটি, দেওছড়া, দেবলছড়া ও ভাগিছড়া এ ধানের শীষের সমর্থন কতটা দৃঢ়।

ভোট সংগ্রহের এই প্রচেষ্টা কেবল রাজনৈতিক বিজয় নয়, বরং এলাকার দীর্ঘদিনের ভোট প্রবণতা ও সামাজিক চাপের ধারাকে বদলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাবেলের নেতৃত্বে তৈরি এই শক্ত ভোটভিত্তি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে তার পথকে আরও শক্ত করেছে।

শ্রমিক অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোটের আচরণ এখন এক নতুন রূপ নিয়েছে। আগে যেখানে দলীয় চাপ ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ ভোট নির্ধারণ করত, এবার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সরাসরি সংযোগ এবং পরিবর্তনের বার্তা,এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

শমশেরনগরের পাঁচটি চা-বাগানে ভোটের ফলাফলও এই পরিবর্তনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে এই কেন্দ্রে ভোট সংগ্রহে বাবেলের নেতৃত্বে নজরকাড়া সাফল্য হয়েছে। এই কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোটের ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে, সাধারণ মানুষ বাবেলের প্রচেষ্টা ও স্থানীয় সমর্থনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ভোটের প্রাপ্ত ফলাফলের প্রবাহ ছিল-ধানের শীষ প্রতীকের জন্য ৩,১৭৩ ভোট, বল ৭৭৭ ভোট, শাপলা কলি ১৬৬ ভোট এবং রিকশা ১২৯ ভোট। এই ফলাফল প্রমাণ করে, বাবেলের সংগঠিত প্রচেষ্টা স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে কতটা বিশ্বাস ও সমর্থন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ১৬৩টি কেন্দ্রে মোট ১,৬৯,৬৭৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ নূরে আলম হামিদী (রিকশা প্রতীক) ৪৯,১৮৯ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের ফলাফল ছিল: বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া মধু ৩৩,৯১১ ভোট, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশ ৪,২৭৫ ভোট, বাসদ মনোনীত প্রার্থী আবুল হাসান ৯২০ ভোট এবং জাতীয় পার্টি প্রার্থী জরিফ হোসেন ৯১০ ভোট।

শমশেরনগরের পাঁচটি চা-বাগানে ধানের শীষের সমর্থন নিশ্চিত করতে বাবেলের সংগঠিত প্রচেষ্টা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় ভোটাররা তার নেতৃত্বে তৈরি যোগাযোগ এবং সমর্থনকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান পদসহ অন্যান্য নির্বাচনী মাঠে তার প্রভাবকে দৃঢ় করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর