বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ছিলেন সাহস, নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় দেশ পরিচালনা ও বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি ছিলেন গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এক নেতা। সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভোটাধিকার ও বহুদলীয় ব্যবস্থার পক্ষে তার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। তার নেতৃত্বে দেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়,যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
খালেদা জিয়ার আরেকটি বড় গুণ ছিল সহনশীলতা ও রাজনৈতিক শালীনতা। কঠিন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণের চেয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন,একটি পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক কাঠামোয় দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনার সাহস দেখিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার অন্যতম বড় গুণ ছিল অটল সাহস ও দৃঢ় মানসিকতা। সামরিক শাসন-পরবর্তী উত্তাল রাজনৈতিক সময়ে তিনি হাল ছাড়েননি। প্রতিকূলতা, কারাবরণ কিংবা অসুস্থতা—কোনোটিই তাকে রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সরাতে পারেনি। সংকটময় সময়েও তিনি দল ও আদর্শের প্রতি অবিচল ছিলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তার শাসনামলে শিক্ষা বিস্তার, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দলের নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব,সব স্তরের নেতাকর্মীরা তাকে “আপসহীন নেত্রী” হিসেবে জানতেন। কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ধৈর্য ও পরিমিতিবোধ ছিল তার নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্য।
রাজনীতির বাইরে ব্যক্তিজীবনে খালেদা জিয়া ছিলেন সংযমী ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হলেও তিনি নিজ যোগ্যতায় রাজনৈতিক নেতৃত্বে উঠে আসেন,যা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে।
তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ককে হারালেও, তার গুণাবলি, আদর্শ ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।