ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মেঘালয়ের ইস্ট জৈন্তিয়া পাহাড়ি জেলায় একটি অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে অন্তত ১৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং খনির ভেতরে আরও শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে দুর্গম থাঙ্কসু এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশপ্রধান বিকাশ কুমার জানান, খনিটিতে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবৈধভাবে কয়লা উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকেই এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, এটি একটি অবৈধ ‘র্যাট-হোল’ ধরনের খনি ছিল, যেখানে সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সুড়ঙ্গ দিয়ে কয়লা উত্তোলন করা হয়। বিস্ফোরণের পর বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দেয়। দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে পুনরায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
মেঘাল্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা ঘটনাটিকে মর্মান্তিক উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং অবৈধ খনন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রত্যেক পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, পরিবেশ ও পানিদূষণের ঝুঁকির কারণে ২০১৪ সাল থেকেই মেঘালয়ে ‘র্যাট-হোল’ পদ্ধতিতে কয়লা খনন নিষিদ্ধ। তবে নজরদারির দুর্বলতার সুযোগে এখনো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা