মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ঘিরে পারিবারিক বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বাবার হেফাজতে থাকা শিশুকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি পরে পুলিশ ফাঁড়ি পর্যন্ত গড়ায় এবং সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (৮ মে) জুমার নামাজ চলাকালে শমশেরনগরের পাইকপাড়া ভূইগাঁও এলাকায় কবির আহমেদ চৌধুরীর বাড়িতে যান তার স্ত্রী নাজিরা আক্তার রুজি ও কয়েকজন সহযোগী। এসময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ১০ বছর বয়সী নেহা চৌধুরীকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। এতে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে কয়েকজনকে আটক করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অভিযুক্তদের আচরণকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতেও ফাঁড়ির ভেতরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আভাস পাওয়া গেছে।
শিশুটির বাবা কবির আহমেদ চৌধুরী দাবি করেন, ২০০৭ সালে নাজিরা আক্তার রুজির সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা বসবাসের পর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে মেয়েকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন তিনি। এরপর শিশুটি মায়ের কাছে ফিরে যেতে অনীহা প্রকাশ করে বলে দাবি তার।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালত ও থানায় পৃথক মামলা করা হলেও আদালত শিশুটির বক্তব্য গ্রহণ করে তাকে বাবার হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দেন। শুক্রবারের ঘটনায় প্রতিপক্ষের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে নাজিরা আক্তার রুজি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আমার মেয়েকে নিতে গিয়েছিলাম। পুলিশ ফাঁড়িতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক (তদন্ত) রুহুল আমিন বলেন, “মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি দেখেছি। শিশুটিকে নিরাপদে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।” তবে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, “শিশুর মায়ের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”