নিজস্ব প্রতিনিধিঃমৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পবিত্র জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ফজিলত, তাৎপর্য ও করণীয় আমল সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি এবং দ্বীনি অনুপ্রেরণা জাগ্রত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র কমলগঞ্জ পৌর শাখার উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলা মডেল জামে মসজিদের কনফারেন্স হলে আয়োজিত “জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকের ফজিলত ও আমল” শীর্ষক এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কমলগঞ্জ পৌর আল ইসলাহ শাখার সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আজমী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ আবদুল জলিল।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সেমিনারের কার্যক্রম শুরু হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আনজুমানে আল ইসলাহ শমসেরনগর ইউনিটের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা হুসাম উদ্দীন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি মুফতি মাওলানা শামছুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আল ইসলাহ’র সদস্য কাজী মাওলানা আলম চৌধুরী, হবিগঞ্জের চুনারুঘাট মাধ্যমিক অফিসার মুহাম্মদ কাওছার শুকরানা, লতিফিয়া ক্বারী সোসাইটির কমলগঞ্জ উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল জলিল, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামীয়া কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি ছাত্রনেতা মোহাম্মদ শামিম আহমদ এবং কমলগঞ্জ উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ মশহুদুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল আহাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, মুহাম্মদ আবদুল বাছিতসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, পবিত্র জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ তাআলার নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ফজিলতময়। এ সময় বেশি বেশি নফল ইবাদত, তওবা-ইস্তিগফার, তাকবির, তাহলিল, তাসবিহ, কুরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা এবং নফল রোজা পালনের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে আরাফার দিনের রোজার ফজিলত ও কুরবানির তাৎপর্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মুসলমানদের মাঝে শবে বরাত ও শবে কদরের আমলের প্রতি যে গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়, ঠিক তেমনি জিলহজ্জের প্রথম দশ দিনেও আমলের গুরুত্ব উপলব্ধি করা প্রয়োজন। কারণ এই মাস হজ, কুরবানি ও আত্মত্যাগের শিক্ষা বহন করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়।
তারা বলেন, বর্তমান সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা ও আত্মকেন্দ্রিকতার মধ্যে মানুষের আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনে এই বরকতময় দিনগুলোর আমল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই মুসলিম উম্মাহর উচিত এ সময়কে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
সেমিনারে আল ইসলাহ’র বিভিন্ন ওয়ার্ড শাখার নেতা-কর্মী, আলেম-উলামা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধান অতিথি দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন।