বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা শ্রীমঙ্গলে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি “হাজি মুজিব “ কমলগঞ্জে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার সীমান্তে নিহত মুজিবুরের পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

কমলগঞ্জে শ্রেণিকক্ষেই খাট-বিছানা, বিদ্যালয় নাকি সংসার?

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: / ৭৬ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষ রান্নাবান্না ও বসবাসের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা, নান্দনিক পরিবেশ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়টি এলাকাবাসীর কাছে প্রশংসিত ছিল। সবুজে ঘেরা ক্যাম্পাস, পরিপাটি শ্রেণিকক্ষ, ফুলের বাগান ও গোছানো পরিবেশের জন্য এটি সীমান্ত এলাকার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত।
বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সরবরাহকৃত শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বেঞ্চ, পাঠদানের উপকরণ ও বই সংরক্ষণের ব্যবস্থাও বিদ্যমান।
তবে সম্প্রতি স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির একটি কক্ষে খাট-বিছানা, রান্নার সরঞ্জামসহ ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যে সেখানে লোকজনের অবস্থানও দেখা যায় বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এভাবে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা শিক্ষা পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একাধিক অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়টি এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হওয়ার পরও এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান পরিবেশ বজায় রাখতে শ্রেণিকক্ষগুলো শুধু শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারের নিশ্চয়তা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বণিক অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে জানান, এক সহকারী শিক্ষিকা তার ছোট সন্তানকে নিয়ে সাময়িকভাবে ওই কক্ষে অবস্থান করছিলেন। শিশুর দেখাশোনার জন্য একজন গৃহকর্মীকেও সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে কক্ষটি সম্পূর্ণ খালি করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর বলেন, বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার শিক্ষা পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর