শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি লেবু বাগানে বন্যশুকর প্রতিরোধে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুনীল সাঁওতাল (৩৬) নামে এক শ্রমজীবী ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের রাধানগর কমিউনিটি ক্লিনিকের পেছনের পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুনীল সাঁওতাল রাধানগর বস্তির মৃত রবিয়া সাঁওতালের ছেলে। তিনি দৈনিক শ্রমের মাধ্যমে পরিবার চালাতেন। তার দুই কন্যা সন্তানের বয়স যথাক্রমে সাত ও পাঁচ বছর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে বাড়ির পাশের আলী আর্জুনের লিজ নেওয়া একটি লেবু বাগানে ঘাস কাটতে যান সুনীল। বাগানটির মালিক শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান জরিপ। ঘাস কাটার সময় বাগানের চারপাশে টানানো বিদ্যুতায়িত জিআই তারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়ি বন্যশুকরের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় ওই তারে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সকালে দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা বাগানের ভেতরে একটি ছোট খালের পাশে জিআই তারে জড়ানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা স্বপন রায় বলেন, “সুনীলের স্ত্রী এসে জানান তিনি নিখোঁজ। পরে বাগানে গিয়ে দেখি বিদ্যুতের তারে জড়ানো অবস্থায় তার নিথর দেহ পড়ে আছে।”
নিহতের ছোট ভাই মুনিল সাঁওতাল বলেন, “ভাই সকালে ঘাস কাটতে যায়। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় খুঁজতে গিয়ে মরদেহ পাই।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম লিটন জানান, বন্যশুকর প্রতিরোধ ও বাগানের ফসল রক্ষায় বিদ্যুতায়িত আর্থিং ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, “ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, লেবু বাগানে বিদ্যুতের তার পেতে রাখা হয়েছিল। ওই তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর রাধানগর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে অনিরাপদ বৈদ্যুতিক ফাঁদ ব্যবহার এখন পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে।