ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভ্রমণের জন্য আদর্শ গন্তব্য হতে পারে মৌলভীবাজারের প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি কমলগঞ্জ। পাহাড়-টিলা, চা বাগান, বনভূমি ও ভারত থেকে নেমে আসা খরস্রোতা ধলাই নদী ঘেরা এই জনপদ এখন পর্যটকদের বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। প্রায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত এ বনভূমিতে রয়েছে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক, চশমা পরা হনুমান, লজ্জাবতী বানর, মায়া হরিণসহ নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। পাশাপাশি আফ্রিকান টিক, ডুমুর, সেগুন, আমলকি ও জলপাইসহ বিভিন্ন বৃক্ষরাজি উদ্যানটিকে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। এখানে থাকা তিনটি প্রাকৃতিক ফুট ট্রেইলে ইকো-ট্যুর গাইডের সহায়তায় পর্যটকরা উপভোগ করতে পারেন বনাঞ্চলের গভীর সৌন্দর্য।
এ ছাড়া উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তে অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত পর্যটকদের কাছে এক স্বর্গীয় অনুভূতির নাম। কুরমা ও চাম্পারায় চা বাগানের ভেতর দিয়ে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে পৌঁছাতে হয় এই জলপ্রপাতে। গহিন অরণ্যের নির্জনতায় ঝরনার কলকল ধ্বনি ও পাখি-পোকার শব্দ সহজেই মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসুদের।
সবুজ চা বাগানে ঘেরা মাধবপুর লেক কমলগঞ্জের আরেকটি দর্শনীয় স্থান। বেগুনি ও নীল পদ্মে ভরা এই লেকের চারপাশের নয়নাভিরাম পরিবেশ, দূর-দিগন্ত থেকে উড়ে আসা পাখির ঝাঁক এবং শান্ত প্রকৃতি দর্শনার্থীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। লেকের প্রবেশমুখে থাকা চা বিক্রয় কেন্দ্র থেকে উন্নতমানের চা সংগ্রহের সুযোগও রয়েছে।
এ ছাড়াও কমলগঞ্জে ঘুরে দেখার মতো রয়েছে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিস্তম্ভ, গারো টিলা ও বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি। চা বাগান অধ্যুষিত এ উপজেলায় গারো, মণিপুরী ও খাসিয়াসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিও পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন রেস্ট হাউস ও বন বিভাগের আবাসনগুলোতে অগ্রিম বুকিং শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে প্রকৃতির সবুজ এই জনপদ।
প্রকৃতি, পাহাড়, ঝরনা, চা বাগান ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির অপূর্ব সমন্বয়ে কমলগঞ্জ এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “কমলগঞ্জ দেখা মানেই যেন অর্ধেক বাংলাদেশ দেখা।”