মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের আগেই অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মিশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ভারত সীমান্ত হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরকের একটি চালান বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করে। পরে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তিনটি বিদেশি পিস্তল, ৩ কেজি ওজনের ২৩টি পাওয়ারজেল নাইনটি বিস্ফোরক টিউব, ২৪টি ডেটোনেটর, ১৫ মিটার ডেটোনেটর তার এবং দুটি কুকরি চাপাতি।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। তাই চালানটি উদ্ধার হওয়াকে সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন বলেন, “সীমান্তে যেকোনো ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক বড়লেখা থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।