কমলগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা ছিনতাই: চট্টগ্রাম থেকে মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার, উদ্ধার মোটরসাইকেল
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের পর এক নারী গ্রাহকের কাছ থেকে নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত সেলিম আহমদ ওরফে ‘বটলা সেলিম’ (৩৮)-কে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২২ জুন সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর এলাকার একটি ব্যাংক শাখা থেকে ১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেন রেহেনা বেগম (৫১)। পরে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে আলীনগর চা-বাগান ফ্যাক্টরির দক্ষিণ পাশে কালীমন্দির সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ব্যক্তি তার গতিরোধ করে। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তারা নগদ টাকা ও চেক নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী কমলগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে সংস্থাটির একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। এসব কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সেলিম আহমদ ওরফে ‘বটলা সেলিম’-এর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
পরে পিবিআই মৌলভীবাজারের একটি দল চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি ভুক্তভোগী শনাক্ত করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. জাফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত সেলিমের বিরুদ্ধে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান থাকায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।