কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে এক সাংবাদিককে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা, মানহানি এবং পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন দৈনিক কালের কণ্ঠের মৌলভীবাজার জেলা মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন শুভ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভানুগাছ মিডিয়া’ ও ‘ভানুগাছ মিডিয়া ০০৩২’ নামে পরিচালিত দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক সালাহউদ্দিন শুভকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব পোস্টে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা ছবি ব্যবহার করে বাস্তবতা বিকৃত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন শুভ দাবি করেন, প্রচারিত কনটেন্টগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যেই প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা বা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলার জন্য আমি থানার শরণাপন্ন হয়েছি।”
তিনি জানান, গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে কমলগঞ্জ থানায় জিডি নম্বর-২৯৫ নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক গণমাধ্যমকর্মীর মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে, তেমনি এর অপব্যবহার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে ডিপফেক ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ব্যবহার করে কাউকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, “এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়বস্তু গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনার উৎস ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আলোচিত ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলোর প্রকৃত নিয়ন্ত্রক বা পরিচালকদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি ভুয়া ছবি বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো ছবি বা তথ্য বিশ্বাস ও প্রচার না করার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।