বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা শ্রীমঙ্গলে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি “হাজি মুজিব “ কমলগঞ্জে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার সীমান্তে নিহত মুজিবুরের পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

শ্রীমঙ্গলের বন্যপ্রাণীর বন্ধু ‘সীতেশ বাবু’ আর নেই

রিপোটার : / ৪০ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

(মৌলভীবাজার ) প্রতিনিধিঃ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ‘সীতেশ বাবু’, আর বন্যপ্রাণীদের কাছে যেন এক নির্ভরতার আশ্রয়। আহত, অসুস্থ ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর সেবায় জীবন উৎসর্গ করা সেই মানুষটি আর নেই। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সীতেশ রঞ্জন দেব মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৯টা ৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গলসহ দেশের প্রকৃতিপ্রেমী, পরিবেশকর্মী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্রীমঙ্গলের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাঁর মরদেহ শেষকৃত্যের জন্য উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।

সীতেশ রঞ্জন দেব দেশের বেসরকারি পর্যায়ে বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পথিকৃৎদের একজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে আহত ও বিপন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে আসছে। দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছেও প্রতিষ্ঠানটি ‘সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা’ নামে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

বন্যপ্রাণীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার সূত্রপাত পারিবারিক পরিবেশে। জানা যায়, তাঁর বাবা শ্রীশ দেব ১৯৬২ সাল থেকে বিভিন্ন আহত ও অসহায় প্রাণী উদ্ধার করে সেবা-যত্ন করতেন। বাবার সেই মানবিক উদ্যোগ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে সীতেশ রঞ্জন দেবও বন্যপ্রাণী রক্ষার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন পশুপাখির সেবাকেন্দ্র।

১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয় তাঁর পশুপাখি সেবাশ্রমের। পরে ২০১১ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তায় এটি ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’ হিসেবে আরও সম্প্রসারিত হয়। কয়েক দশক ধরে অসংখ্য আহত বানর, হরিণ, শকুন, পাখি, অজগর ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী তাঁর হাত ধরে নতুন জীবন পেয়েছে।

বন্যপ্রাণীর সেবায় কাজ করতে গিয়ে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবেও চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ১৯৯১ সালে একটি ভালুকের আক্রমণে তিনি এক চোখের দৃষ্টি হারান এবং মুখমণ্ডল ও নাকে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। কিন্তু সেই দুর্ঘটনা তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রাণী ও প্রকৃতির সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।

সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যুতে দেশ একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রকৃতিপ্রেমী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের অগ্রসৈনিক এবং মানবিক ব্যক্তিত্বকে হারালো। তিনি মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

জীবদ্দশায় সীতেশ রঞ্জন দেব শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই গড়ে তোলেননি, গড়ে তুলেছিলেন বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার এক অনন্য সংস্কৃতি। তাঁর মৃত্যুতে শ্রীমঙ্গল হারালো এক নিবেদিতপ্রাণ পরিবেশসেবককে, আর দেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলন হারালো এক সাহসী ও মানবিক অগ্রদূতকে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর