মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত কুরমাছড়া এলাকায় দুর্গত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনার পাশাপাশি রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্কসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ক্যাম্পটি আয়োজন করা হয়।
ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করেন চারজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। তারা প্রায় ৪৫০ জন রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করেন। একই সঙ্গে পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয় এবং স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে ১০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। এতে দুর্গত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। অনেক পরিবার কয়েকদিন ধরে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্য সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। দেশের মানুষের যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি সবসময় পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”
তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত এলাকায় বিজিবির মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন অনুসারে আরও সহায়তা প্রদান করা হবে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বন্যার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেকের পক্ষে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির এই উদ্যোগ তাদের জন্য অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীরা সহজেই চিকিৎসা ও ওষুধ পাওয়ায় উপকৃত হয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দুর্যোগকালীন সময়ে চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সহায়তা নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিজিবির এমন কার্যক্রম দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বাহিনীটি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় করছে