বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা শ্রীমঙ্গলে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি “হাজি মুজিব “ কমলগঞ্জে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার সীমান্তে নিহত মুজিবুরের পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণ নেতৃত্বের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি

অনলাইন থেকে / ২২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের তরুণ নেতাদের কার্যক্রম জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পেতে দেখা যাচ্ছে।

২০২৪ সালের কোটাবিষয়ক আন্দোলন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত হয়। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতা পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠন করেন।

এনসিপির আলোচিত তরুণ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আবদুল্লাহ, হান্নান মাসউদ, আতিকুর রহমান মোজাহিদ ও আব্দুল্লাহ আল আমিন। দলীয় কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে তাদের অংশগ্রহণের কারণে তারা রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেছেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যেও তরুণ নেতৃত্বের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন প্রজন্মের নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য ও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।

বর্তমানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের তরুণ নেতারা সংবাদ সম্মেলন, সেমিনার, আলোচনা সভা, টকশো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাদের বক্তব্য ও মতামত ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতেও তুলনামূলকভাবে তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে। দলটির বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন প্রজন্মের নেতাদের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

২০২৪ সালের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নির্বাচিত ছাত্রনেতাদের কার্যক্রমও আলোচনায় এসেছে। তারা ক্যাম্পাসভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও জাতীয় নানা ইস্যুতে মতামত প্রকাশ করছেন এবং বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘ সময় পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবারও নেতৃত্ব বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনায় এসেছে। ফলে বর্তমান ছাত্রনেতাদের একটি অংশ ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের চেষ্টার খবরও বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তরুণদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীলতা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রনেতাদের জাতীয় নেতৃত্বে আসার ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। তবে বর্তমান প্রজন্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

সার্বিকভাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ ও দৃশ্যমানতা বেড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মে তাদের সক্রিয়তা ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর