কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বালিগাঁও গ্রামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও জন্ম দিয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) রাত প্রায় ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত দিপালী সিনহা (৩৩) মাধবপুর ইউনিয়নের গকুল সিংহের গাঁও এলাকার বিমানন্দ সিনহার মেয়ে এবং উত্তর বালিগাঁও গ্রামের রাজিব কুমার সিংহের স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে দিপালী সিনহার দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধের পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ নিয়েও তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিপালী ছিলেন শান্ত ও স্বল্পভাষী স্বভাবের মানুষ। সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বেশ উদ্বিগ্ন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
নিহতের ছোট ভাই দিপক সিংহ বলেন, ঘটনার আগে তার বোনের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সে সিলেটে রথযাত্রা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল। পরে আবার জানায়, স্বামী যেতে নিষেধ করেছেন। তবে মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
অন্যদিকে স্বামী রাজিব কুমার সিংহ বলেন, তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিমান করতেন এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে চিকিৎসাও করানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। রাজিব বলেন, “আমাদের দুটি সন্তান রয়েছে। এমন ঘটনা ঘটবে কখনো কল্পনাও করিনি।”
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বা তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে একটি অকাল মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।