কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগের অভিযানে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় গঠিত উচ্চতর তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে বিষয়টি তদন্তে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটির সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত কমলা বাগান পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বাগানের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র সংগ্রহ করেন।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) আশরাফুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিলেট বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) আব্দুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা রাজস্ব কর্মকর্তা শাহিনা আক্তার।
পরিদর্শনকালে তদন্ত কমিটির প্রধান আশরাফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গাছ কর্তনের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এর আগে উপজেলার রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর বন বিটের কালিঞ্জি এলাকায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘ আট বছর ধরে গড়ে তোলা সালমা বেগম ও আলিম উল্লাহ দম্পতির কমলা বাগান উচ্ছেদ করা হয়। বাগানটিতে প্রায় ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ ছিল বলে পরিবারটির দাবি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এনজিও থেকে চড়া সুদে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা এই বাগানের ফল বিক্রি করে ঋণের বোঝা শোধ করার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু নিয়মিত মাসোহারা (চাঁদা) দিতে না পারায় প্রতিহিংসামূলকভাবে তাদের বাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া বলেন, “সংরক্ষিত বনের ভেতরে যেকোনো ধরনের জবরদখল সম্পূর্ণ বেআইনি। বনের জমি অবমুক্ত করতে আমাদের উচ্ছেদ তৎপরতা সর্বদা চলমান। এটি ৮ বছর বা ১০ বছর যতদিনেরই জবরদখল হোক না কেন, তা অবৈধ। রাজকান্দি রেঞ্জের অধীনে যত জবরদখল রয়েছে, আমরা ধীরে ধীরে সেগুলো অবমুক্ত করছি।”
১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় উচ্চতর তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।