মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
ডিজিটাল যুগে তথ্যের প্রবাহ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপতথ্যের ঝুঁকিও। এমন বাস্তবতায় সত্যনিষ্ঠ, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে মৌলভীবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালা।
শনিবার (২৯ আগস্ট) মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ) আয়োজিত এ কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আগ্রহী তরুণ-তরুণীরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের প্রধান প্রশিক্ষক ছিলেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও বিবিসির সাবেক প্রতিনিধি আকবর হোসেন। তিনি সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সংবাদ লেখার কৌশল, পেশাগত নৈতিকতা এবং গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রুততার প্রতিযোগিতায় নয়, বরং নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতেই একজন সাংবাদিকের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। একটি সংবাদের পেছনের তথ্য যাচাই, একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
সিএমএফের সভাপতি হোসাইন আহমদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুব, দৈনিক মানবজমিনের বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইংরেজি দৈনিক দ্য ড্যাজলিং ডন-এর সম্পাদক মুনজের আহমদ চৌধুরী, সিএমএফের সহসভাপতি শাহনেওয়াজ চৌধুরী সুমন এবং সংগঠনটির সাবেক সহসভাপতি আশরাফ আলী।
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের ফলে তথ্যপ্রবাহ সহজ হলেও পেশাদার সাংবাদিকতার গুরুত্ব কমেনি; বরং তথ্য যাচাই ও জনস্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব আরও বেড়েছে। তাই নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিকতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও অনুসন্ধানী মনোভাব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা।
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরাও অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা জানান।
আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শক্তিশালী করা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুধু সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক নয়, বরং নতুন প্রজন্মের সংবাদকর্মীদের জন্য একটি কার্যকর শেখার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।