বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০১:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শমশেরনগরে পরিত্যক্ত স্থান থেকে পাইপগান উদ্ধার, অস্ত্রের উৎস খুঁজছে পুলিশ কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা শ্রীমঙ্গলে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি “হাজি মুজিব “ কমলগঞ্জে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার

কমলগঞ্জের ‘মদিনা ভাই’ আর নেই

রিপোটার : / ৭৮ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

বাঁশির সুরে মানুষকে মুগ্ধ করা এক চেনা মুখ, সবার প্রিয় “মদিনা ভাই” আর নেই। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় বংশীবাদক মদিনা (৭০) গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়ি ভেড়াছড়া গ্রামে স্ট্রোকজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুর আগের দিনও তিনি ছিলেন স্বভাবসুলভ প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ও নিজ এলাকার পাশের গ্রাম উত্তর বালিগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের সুরের জাদুতে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন। যেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষকে আনন্দ দিয়েই বিদায় নিলেন এই শিল্পী। কিভাবে দর্শকের মন জয় করেন পহেলা বৈশাখের দিন কালের কণ্ঠকে দিয়েছিলেন সাক্ষাৎকার।

দীর্ঘদিন ধরে কমলগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ ছিলেন মদিনা ভাই। বাঁশি বাজিয়ে গান পরিবেশনের পাশাপাশি ছোটখাটো সার্কাস প্রদর্শন ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে বিনোদন ছড়িয়ে দিতেন। তার বিশেষ আকর্ষণ ছিল কয়েনের ম্যাজিক—একটি কয়েন থেকে একাধিক কয়েন তৈরি করার কৌশল, যা শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শকের কাছে ছিল ভীষণ জনপ্রিয়।
জীবিকার প্রয়োজনে রিক্সা চালিয়ে, কখনো আইসক্রিম, বাদাম কিংবা আচার বিক্রি করতেন তিনি। তবে তার প্রকৃত পরিচয় ছিল ভ্রাম্যমাণ শিল্পী হিসেবে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও ক্যামেলিয়া লেকসহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বাঁশির সুরে দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতেন এবং সেখান থেকেই জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয়দের কাছে তিনি ছিলেন একেবারেই আলাদা—হাসিখুশি, প্রাণবন্ত এবং সাদা মনের মানুষ। তাকে দেখলেই কেউ বলত, “মদিনা ভাই, একটা বাঁশি বাজান,” আবার কেউ অনুরোধ করত, “একটা সার্কাস দেখান।” তিনি কখনো কাউকে নিরাশ করতেন না; বরং হাসিমুখে সবার আবদার পূরণ করতেন।
তার মৃত্যুতে পুরা জেলা ও নিজ থানা কমলগঞ্জজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয়রা জানান, মদিনা ভাই শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন আনন্দের প্রতীক—যার উপস্থিতি মুহূর্তেই পরিবেশকে প্রাণবন্ত করে তুলত।

একজন নিরহংকার, নিবেদিতপ্রাণ ভ্রাম্যমাণ শিল্পীর এই বিদায় যেন কমলগঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি করল।
হঠাৎ কমলগঞ্জ উপজেলার জনপ্রিয় বংশীবাদক মদিনা ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে খুব খারাপ লাগছে বলে জানান কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আসাদুজ্জামান। তিনি জানান,মৃত্যুর পরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মদিনার পরিবারকে নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হয় এবং দরিদ্র এই পরিবারকে সবসময় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর