মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, জীবনধারা ও উৎপাদিত পণ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’। আগামী ১৯ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ।
তিনি জানান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন।
আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় বসবাসরত ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এ উৎসবে অংশ নেবে। তারা নিজস্ব স্টলের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, পোশাক, অলংকার, শিকারি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রয় করবে। পাশাপাশি নৃত্য, গান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং লোকজ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনা থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য।
উৎসবে খাসিয়া, গারো, মনিপুরি, ত্রিপুরা, সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাও, ভূমিজ, কুর্মী, খাড়িয়াসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। এছাড়া খাসিয়াদের তীর-ধনুক প্রতিযোগিতা, তৈলাক্ত বাঁশে ওঠার খেলা, পানচাষ বিষয়ক লাইভ প্রদর্শনী, মনিপুরি তাঁত, ত্রিপুরা কোমর তাঁত, বাঁশ ও কাঠের সামগ্রী প্রস্তুত এবং কুমারদের মাটির জিনিস তৈরির সরাসরি প্রদর্শনী থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৫০টি গেজেটভুক্ত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে ২৬টির বসবাস রয়েছে শ্রীমঙ্গল ও এর আশপাশে। তাদের বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটনের বিকাশে এ উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকদের মতে, হারমোনি ফেস্টিভ্যাল শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; এটি স্থানীয় অর্থনীতি, পর্যটন শিল্প ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এ আয়োজন অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আগাম ভ্রমণ পরিকল্পনা ও পর্যটন প্যাকেজ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
উৎসব সফল করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্ট, ট্যুর অপারেটর, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ফিনলে চা কর্তৃপক্ষসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করছে।