একটি প্রথম শ্রেণীর নিষ্পাপ শিশু। বয়স মাত্র সাত। যার এখনো চারপাশের জগতের নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, সেই সরলতার সুযোগ নিয়ে ধেয়ে এলো এক বৃদ্ধের লালসা। তবে কমলগঞ্জে এই পাশবিক চেষ্টার পর অপরাধী পার পেয়ে যায়নি। ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তথ্যপ্রযুক্তির জাল বুনে অভিযুক্ত বৃদ্ধকে রাতেই গ্রীপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার এখন অপরাধীর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়, যা সমাজে এক কঠোর বার্তা দেবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মইদাইল গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় মানিক মিয়ার মেয়ে।
একই গ্রামের রশিদ মিয়ার দোকানের ৬৫ বছর বয়সী কর্মচারী চান মিয়া শিশুটিকে একা পেয়ে ফুসলিয়ে দোকানঘরের ভেতর ডেকে নেয়। সেখানে ঘরের দরজা আটকে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। শিশুটির চিৎকার ও ঘটনার জানাজানির পর পরই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। বেগতিক দেখে অভিযুক্ত চান মিয়া কৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করে।
ঘটনাটি জানার পরপরই অ্যাকশনে নামে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। অপরাধী যেন এলাকা ছেড়ে কোনোভাবেই পালাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ সুপার ও ওসির নির্দেশনায় একটি বিশেষ টিম মাঠে নামে ,কমলগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিন, এসআই মিঠু রায় এবং এএসআই হামিদুর রহমানের যৌথ টিম মাঠে নামে। গোপন সংবাদ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির (ট্যাকিং) সমন্বয়ে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালানো হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মুন্সিবাজার এলাকা থেকেই পলাতক চান মিয়াকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
হাসপাতালের বেডে শুয়ে যখন সাত বছরের শিশুটি যন্ত্রণার সাথে লড়াই করছে, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তার বাবা মানিক মিয়া। তিনি বলেন: আমার মেয়েটা প্রথম শ্রেণীতে পড়ে। ও তো কিচ্ছু বোঝে না। ওর সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে, আমি তার কঠোরতম বিচার চাই। এমন বিচার হোক, যা দেখে ভবিষ্যতে কোনো লম্পট যেন আর এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।”
তিনি এই ঘটনায় কমলগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন: “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিবেকহীন। তবে আমরা অপরাধীকে কোনো ছাড় দেইনি। খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম অভিযানে নামে এবং সফলভাবে তাকে আটক করা হয়েছে। এই বিষয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশুর পরিবারকে সর্বোচ্চ আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে।”