আম, কাঁঠাল, জাম, লটকন, সফেদা, চালতা, ডেউয়াসহ অর্ধশতাধিক দেশীয় ও মৌসুমি ফলের সমারোহে মুখর হয়ে উঠেছিল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আম্বিয়া কেজি স্কুল। নতুন প্রজন্মকে দেশীয় ফলের সঙ্গে পরিচিত করা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করতে সোমবার বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব।
সকাল ১০টা থেকে প্লে-গ্রুপ থেকে কেজি-৫ পর্যন্ত সাতটি শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের ফল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে শ্রেণিকক্ষের সামনে ফল সাজিয়ে প্রদর্শন করে। পরে বিভিন্ন শ্রেণি থেকে সংগ্রহ করা ফল একত্রিত করে বিদ্যালয় মাঠে বড় পরিসরে দৃষ্টিনন্দন স্টল তৈরি করা হয়।
উৎসবে দেশীয় ফলের পাশাপাশি কিছু বিলুপ্তপ্রায় ফলও প্রদর্শন করা হয়, যা শিশুদের কাছে বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, বর্তমান সময়ে শিশুদের মধ্যে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতেই এই আয়োজন।
ফল উৎসব পরিদর্শন করেন আম্বিয়া কেজি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ, সাংবাদিক মো. সাইদুল ইসলাম, ডা. তারানা জেবিন রুপা, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আনজুমান আরা রুবি, বিজিবি সদস্য বিভাস দেবনাথ, ব্যবসায়ী সোলাইমান উদ্দিনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার আমন্ত্রিত অতিথি ও অভিভাবকবৃন্দ।
অতিথিরা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, ফলের বৈচিত্র্য এবং আয়োজনের শিক্ষামূলক গুরুত্বের প্রশংসা করেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিশুদের দেশীয় ঐতিহ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।