শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জের মুন্সিবাজারে ভিডিপি সদস্য আশরাফুল আলমের উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান রত্নগর্ভা মা সম্মাননা, অবসরজনিত বিদায় ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনায় মুখর গকুলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শ্রীমঙ্গলে চা পাতা তুলতে গিয়ে খৈয়া গোখরা সাপ, আতঙ্কে শ্রমিকরা কমলগঞ্জে ৪ পিস ইয়াবাসহ আটক, অপরজন পলাতক শ্রীমঙ্গলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার মৌলভীবাজারে রাজপথে মহড়া ও আলোচনা: উদযাপন করা হলো জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কমলগঞ্জে বসতঘরের সিঁড়ির নিচ থেকে ৫টি মনোক্লেড কোবরা সাপের বাচ্চা উদ্ধার চিরকুট লিখে তরুণীর আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে মরদেহ লোকালয় থেকে দুই বনবিড়াল শাবক উদ্ধার শমশেরনগরে আলীবাবা রেস্টুরেন্টসহ দুই প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মনুর তোড়ে ডুবছে রাজনগর, রাত পোহাতেই পানিবন্দি হাজারো মানুষ

রিপোটার : / ৪৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণের চাপে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা এখন এক বিস্তীর্ণ জলরাশিতে পরিণত হয়েছে। মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশ উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে পানি। এতে কামারচাক, টেংরা ও নদীতীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি শুরু হয়। কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল এলাকায় বাঁধের ওপর দিয়ে প্রবল স্রোতে পানি প্রবেশ করায় মুহূর্তেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে। অনেক বাড়িঘর, রান্নাঘর, পুকুর ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মানুষ ঘরের ভেতরেই আটকা পড়েছেন, আবার অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উঁচু স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পানি বাড়ার গতি উদ্বেগজনক। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং নদীর পানি দ্রুত না কমলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় বালুর বস্তা ফেলে বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে। একই সঙ্গে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে কিছু পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে। দুর্গতদের জন্য চাল, শুকনা খাবার ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে অতিরিক্ত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। তবে স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—মনু নদীর পানি দ্রুত কমে আসুক এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো টিকে থাকুক। বর্তমানে রাজনগরের মানুষের চোখে-মুখে সেই অপেক্ষারই প্রতিফলন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর