মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীতে স্রোতের টানে নিখোঁজ হওয়া কৃষক মাসুক মিয়ার (৪৫) মরদেহ চার দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৫ জুলাই) ভোরে উপজেলার হকতিয়ারখোলা এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
নিহত মাসুক মিয়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের হিরামতি গ্রামের মৃত আজিজ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে গবাদিপশুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ি থেকে বের হন মাসুক মিয়া। ঘাস কেটে ফেরার পথে দুপুরের দিকে মাথায় ঘাসের বোঝা নিয়ে ধলাই নদী পার হওয়ার সময় প্রবল স্রোতের কবলে পড়ে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয় লোকজন যৌথভাবে নদীর বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার অভিযান চালায়। কয়েক দিন ধরে তল্লাশি অব্যাহত থাকলেও নদীর তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নিখোঁজ কৃষকের সন্ধান মেলেনি।
বুধবার ভোরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে হকতিয়ারখোলা এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কমলগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
কমলগঞ্জ থানার কর্মকর্তা (তদন্ত ) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধলাই নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি নিখোঁজ কৃষক মাসুক মিয়ার। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, চার দিন ধরে স্বজনদের অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার অবসান হলেও মরদেহ উদ্ধারের খবরে হিরামতি গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।
স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক বন্যা ও টানা বর্ষণের কারণে ধলাই নদীর স্রোত অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। নদী পারাপারে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।