বিশেষ প্রতিনিধি, শ্রীমঙ্গল
সকালের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে খামারের গরুগুলো। চিৎকার-চেঁচামেচি আর ছোটাছুটিতে সন্দেহ হওয়ায় খামারের ভেতরে ঢোকেন মালিক। আর তখনই চোখে পড়ে বিশাল এক অজগর—দৈর্ঘ্যে প্রায় ১৮ ফুট।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকায় জসীম উদ্দিনের খামারে এ ঘটনা ঘটে। পরে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
খামার মালিক জসীম উদ্দিন জানান, সকালে খামারের গরুগুলো অস্বাভাবিকভাবে ডাকাডাকি ও ছোটাছুটি শুরু করলে তিনি বিষয়টি দেখতে যান। সেখানে গিয়ে একটি বিশাল আকৃতির অজগর দেখতে পান। সাপটি দেখে খামারে থাকা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
তিনি বলেন, “গরুগুলোর আচরণ দেখে প্রথমে কিছু বুঝতে পারিনি। পরে খামারে ঢুকে দেখি বিশাল একটি অজগর। গরুর নড়াচড়া ও চিৎকারে সাপটি নিজেই খামার থেকে বের হয়ে যায়।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। তারা দীর্ঘ সময় সতর্কতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে অজগরটিকে উদ্ধার করেন।
স্বপন দেব সজল জানান, উদ্ধারকৃত অজগরটি সুস্থ ও অক্ষত ছিল। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এটি একটি পূর্ণবয়স্ক অজগর বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “উদ্ধারকৃত অজগরটি বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উপযুক্ত আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।”
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বন্যপ্রাণীর বিচরণ কিছুটা বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানান, অজগর সাধারণত মানুষের ওপর আক্রমণাত্মক নয়; নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।