হামহামের গহিন অরণ্যে রাতভর অভিযান, সিতাব জলধারা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বনের গভীরে অবস্থিত হামহাম জলপ্রপাত সংলগ্ন সিতাব জলধারা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে যৌথ উদ্ধারকারী দল। দুর্গম পাহাড়ি পথ, ঘন বনাঞ্চল এবং রাতের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও টানা অভিযানের মাধ্যমে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে কয়েকজন মাছ শিকারি হামহাম পর্যটন এলাকার মোকাম টিলা সংলগ্ন সিতাবের পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে প্রশাসনের বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনী উদ্ধার প্রস্তুতি শুরু করে।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দীপ তালুকদারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বন বিভাগ, কমলগঞ্জ থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যানবাহন চলাচলের সুযোগ না থাকায় উদ্ধারকারী দলকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করতে হয়।
অভিযানে স্থানীয়ভাবে সহযোগিতা করেন চাম্পারায় চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা, ইউপি সদস্য সজয় কিশোর যাদব এবং এলাকার বাসিন্দারা। কয়েক ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর শুক্রবার ভোরে মরদেহটি উদ্ধার করে পাহাড়ি গিরিপথ পেরিয়ে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে, মরদেহটি বেশ কিছুদিন আগের হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে পারে। তবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তার নাম-পরিচয়, বাসস্থান কিংবা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবল স্রোতের কারণে মরদেহটি উজানের কোনো এলাকা থেকে ভেসে এসে সিতাব জলধারায় আটকে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অভিযান চলাকালে ইউএনও সন্দীপ তালুকদার, কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিনসহ বিভিন্ন দপ্তর ও বাহিনীর কর্মকর্তারা রাতভর ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন জানান, উদ্ধার করা মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।