কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া সংলগ্ন স্টিল ব্রিজ এলাকা থেকে একটি বিশাল আকৃতির মৃত সেগুন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে গাছটি কেটে ট্রাকে করে সরিয়ে নিয়েছে। গাছটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার ভোররাতে গাছটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করতে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে স্থানীয়দের বর্ণনার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মিল পাওয়া যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ভোর আনুমানিক ৫টা ৩০ মিনিটে একটি হলুদ রঙের ডায়না ট্রাক লাউয়াছড়া এলাকা থেকে ভানুগাছ হয়ে উপজেলা চৌমুহনী সড়কের দিকে দ্রুতগতিতে যাচ্ছে। ট্রাকটির মালামাল তেরফাল দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল এবং গাড়ির ওপর ৪ থেকে ৫ জন লোক অবস্থান করছিলেন। একই সময়ে একটি মোটরসাইকেলকে ট্রাকটির সামনে চলতে দেখা যায়। তবে ফুটেজে ট্রাকে কী বহন করা হচ্ছিল তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা থেকে বড় আকারের একটি সেগুন গাছ কেটে ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নজরে না আসার বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হলো?
জানা গেছে, ঘটনার রাতে জানকিছড়া গেটে দায়িত্বে ছিলেন সিপিজি সদস্য বাবুল। অন্যদিকে লাউয়াছড়া প্রধান ফটক এলাকায় বন বিভাগের টহল কার্যক্রমও চলমান ছিল। এমন পরিস্থিতিতে গাছ কেটে পরিবহনের ঘটনা বন বিভাগের নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে কাজ করা স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি বড় সেগুন গাছ কাটা, টুকরো করা এবং ট্রাকে তোলা কোনো একক ব্যক্তির পক্ষে সম্ভব নয়। এতে একাধিক ব্যক্তি ও পূর্বপরিকল্পনার প্রয়োজন হয়। ফলে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা ও সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও কাঠ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে স্থানীয়রা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্তকরণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বনজ সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।