বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
জামিন পেলেন ব্যারিস্টার সুমন শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হবিগঞ্জের পথে এনসিপির গাড়িবহর কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ইউএইচএফপিও হিসেবে যোগদান করলেন ডা. শাকুর আহমেদ শিক্ষা ও সংস্কৃতি: উন্নত জাতি গঠনের দুই ভিত্তি শমশেরনগরে পরিত্যক্ত স্থান থেকে পাইপগান উদ্ধার, অস্ত্রের উৎস খুঁজছে পুলিশ কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা

মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা

অনলাইন ডেস্ক / ১২৪ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করবেন তাসনিম জারা। এই প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র এই প্রার্থী।

আজ শনিবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা এ কথা বলেন। পরে তিনি প্রথম আলোকে দেওয়া লিখিত বক্তব্যেও একই কথা বলেন। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী।

তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে আজ বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আজমল হোসেন আজ প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আজমল হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, মোট ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ৩০০ জনের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। সেটা ঠিকই ছিল। বরং কিছু বেশি ভোটারের স্বাক্ষর ছিল। তবে যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রস্তাবক ও সমর্থক হিসেবে নাম দেওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজন ঢাকা-৯ আসনের ভোটার। বাকি দুজন ওই আসনের ভোটার না হওয়ায় নির্বাচনবিধি অনুযায়ী, তাঁর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে তাঁর (তাসনিম জারা) আপিলের সুযোগ আছে।

তাসনিম জারা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তিনি ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আজ বাছাইপর্ব ছিল। বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়নি। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আপিলের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছেন।

তাসনিম জারা বলেন, মনোনয়নপত্র গ্রহণ না করার পেছনে নির্বাচন কমিশন যে কারণ দেখিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিতে হয়। যা দরকার ছিল, তার চেয়ে বেশি স্বাক্ষর তাঁরা জমা দিয়েছিলেন। সেখান থেকে ১০ জনের তথ্যের সত্যতা তাঁরা ভেরিফাই (যাচাই) করতে গিয়েছেন। ১০ জনের সত্যতা পেয়েছেন। তবে এই ১০ জনের মধ্যে ২ জনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাঁরা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার নন। এই দুজন জানতেন, তাঁরা ঢাকা-৯-এর ভোটার। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁরা ঢাকা-৯-এর ভোটার নন।

তাসনিম জারা বলেন, একজনের বাসা খিলগাঁও। খিলগাঁওয়ে ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ দুটি আসনই পড়ে। স্বাক্ষরকারী জানতেন, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। সে অনুযায়ী স্বাক্ষর করেছেন। আরেকজনের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তিনি ঢাকা-৯-এর ভোটার। কয়েক বছর আগে তিনি শরীয়তপুরে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ঠিকানা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কোনো আপডেট পাননি। এখন নির্বাচন কমিশনের অনলাইন ডেটাবেজ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, তিনি শরীয়তপুরের ভোটার।

এ বিষয়ে তাসনিম জারা বলেন, এই দুজনের জানার কোনো উপায় ছিল না, তাঁরা কোন আসনের ভোটার। এই তথ্য জানার কোনো উপায় নির্বাচন কমিশন রাখেনি।

তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, কোনো আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার জন্য ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সেই হিসাবে ঢাকা-৯ আসনের জন্য তাসনিম জারা ৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিয়েছিলেন। এসব স্বাক্ষরের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ৮ জনের তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে। অন্য ২ জনের ক্ষেত্রে একজনের ভোটার এলাকা শরীয়তপুর ও আরেকজনের ঢাকা-১১-তে পাওয়া গেছে। কিন্তু তাঁরা যখন স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছেন, তখন ওই দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখ ছিল তাঁরা ঢাকা-৯ আসনের ভোটার।

যে দুজন ভোটারের তথ্যে গরমিলের কারণে তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি তাঁদের দিয়েছেন বলে জানান খালেদ সাইফুল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাসনিম জারা আপিল করবেন।’

গত ২৮ ডিসেম্বর বিকেলে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী আসন সমঝোতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। তবে এই আলোচনা যখন প্রায় চূড়ান্ত, এমন পরিস্থিতিতে গত ২৭ ডিসেম্বর এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। তিনি দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থীও ছিলেন।

এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী তাসনিম জারা। এরপর মাত্র দেড় দিনে পাঁচ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তিনি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে নির্বাচনী আসনের ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা লাগে।

স্বাক্ষর সংগ্রহ করে গত ২৯ ডিসেম্বর শেষ দিনে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাসনিম জারা।

স্বাক্ষর সংগ্রহ ও মনোনয়নপত্র জমার প্রক্রিয়ায় তাসনিম জারার সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ। গত বুধবার তিনিও এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন। খালেদ দলটির যুগ্ম আহ্বায়কের পাশাপাশি পলিসি ও রিসার্চ উইংয়ের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন। খালেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করেছেন।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর