ময়মনসিংহ নগরীতে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ওই যুবককে অভিযোগকারী নারীর চার ছেলে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকালে নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজিব আহমেদ ওরফে রুবেল (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত রুবেল নগরীর আর কে মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি ৩৬ বাড়ি কলোনির একটি বাসায় বন্ধুদের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় বাসার সামনে রাখা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি মদের বোতলও জব্দ করেছে পুলিশ, যা আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, ঘটনার আগের দিন এক নারী ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর চার ছেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এদিকে মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় রনি মিয়া (২৭) ও স্বজল (৩৫) নামে দুই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং জড়িতদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।