একটি জাতির উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষিত, মানবিক ও সংস্কৃতিমনা নাগরিক গড়ে তোলার ওপর। আর সে কারণেই শিক্ষা ও সংস্কৃতি একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শিক্ষা মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করে, যুক্তিবোধ জাগ্রত করে এবং তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়। অন্যদিকে সংস্কৃতি মানুষের মনন, নৈতিকতা, সৌন্দর্যবোধ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটায়। শিক্ষা যদি মানুষকে দক্ষ করে তোলে, তবে সংস্কৃতি তাকে মানুষ হিসেবে পরিপূর্ণতা দেয়।
বর্তমান সময়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার ক্ষেত্রও সংকুচিত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার ফলাফলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গিয়ে সাহিত্য, সংগীত, নাটক, আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও লোকসংস্কৃতির মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড উপেক্ষিত হচ্ছে। অথচ এসব চর্চাই শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী, সহনশীল, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি না হলে শিক্ষার পূর্ণতা আসে না। বিশ্বায়নের এই যুগে আধুনিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নিজের সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যে জাতি তার সংস্কৃতিকে সম্মান করে, সেই জাতিই বিশ্বদরবারে মর্যাদার সঙ্গে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে পারে।
তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি, স্থানীয় ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির চর্চা এবং শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা ও সংস্কৃতির সমন্বিত বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই দৃঢ় বন্ধনই পারে একটি জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। তাই শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া আজ সময়ের অন্যতম দাবি।