রাজনীতিতে শৃঙ্খলা আর সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা কেমন হওয়া উচিত, তার এক দারুণ নজির দেখালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। সকালে সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর এক মৃদু শাসন আর বিকেলেই এমপির ঢাকায় গিয়ে সংসদে যোগদানের ঘটনাটি এখন রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
বুধবার সকালে মৌলভীবাজারে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন স্থানীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য।
তবে বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ভিড় বা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে জনপ্রতিনিধিদের সংসদের প্রতি মনোযোগী হওয়াটাকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এগিয়ে গিয়ে সালাম ও হ্যান্ডশেক করতেই প্রধানমন্ত্রী কিছুটা বিস্ময় ও বিরক্তি প্রকাশ করে জানতে চান— আজ সংসদে অধিবেশন আছে কি না।
জবাবে সংসদ সদস্যরা ‘আছে’ বলতেই প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
“তাহলে আপনারা এখানে কেন? সংসদে যান। আমি তো মৌলভীবাজার যাবো, আপনাদের এখানে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। আপনারা দ্রুত সংসদে যোগ দিন।”
বকুনি নয়, যেন নেতার সঠিক দিকনির্দেশনা
প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশনাকে নেতিবাচকভাবে না নিয়ে, একজন আদর্শ কর্মীর মতো লুফে নেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী। নেতার নির্দেশ পাওয়ার পরপরই তিনি আর সিলেটে বা মৌলভীবাজারের কর্মসূচিতে সময় ব্যয় করেননি। দ্রুততম সময়ে সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে বিকেলে সরাসরি গিয়ে হাজির হন মহান জাতীয় সংসদ অধিবেশনে।
বিকেলে সংসদ ভবন থেকেই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার পেছনের মূল সৌন্দর্যটি তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। তিনি লেখেন:
“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এয়ারপোর্টে স্বাগত জানানোর সময় উনার নির্দেশমতো আমি সাথে সাথেই ঢাকায় মহান জাতীয় সংসদে চলে আসি। তারেক রহমান সংসদকে অত্যন্ত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সংসদকে সকল কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাচ্ছেন। এটা থেকেই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রকে কতটুকু গুরুত্ব দেন।”মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত দিন
এদিকে সিলেট বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি তৃণমূল মানুষের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করেন। পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দিতে সেখানে তিনি একটি জাম ও একটি কৃষ্ণচূড়ার চারা রোপণ করেন।
এরপর বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ‘মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’ মাঠে আরেকটি সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।