কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ প্রাণীসম্পদ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার খোশালপুর গ্রামে ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে এ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
বিশিষ্ট কৃষিবিদ, তরুণ উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী মুঈদ আশিক চিশতীর উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক পশু মালিক ও খামারি অংশগ্রহণ করেন। তারা গবাদিপশুর বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধ সেবা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শ্যামল কুমার চৌধুরী, ভিএফএ শাওন কান্তি দে, অফিস সহকারী রাজু যাদব এবং সিইএ আবুল হাসান।
এ সময় খামারিদের উদ্দেশ্যে প্রাণিসম্পদের সঠিক পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ, টিকাদান কর্মসূচি, খামার ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পশুপালন পদ্ধতি বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়।
উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শ্যামল কুমার চৌধুরী বলেন, “প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কাছে প্রাণী চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে খামারিরা সহজেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ পাচ্ছেন, যা প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
উদ্যোক্তা মুঈদ আশিক চিশতী বলেন, “খামারিরা যাতে সহজে প্রাণী চিকিৎসা সেবা পান এবং গবাদিপশুর উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারেন, সেই লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও খামারিদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।”
শ্রীনাথপুর থেকে আসা নিয়তি মালাকার বলেন, “আমার গরুর দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছি। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেয়ে আমি খুবই উপকৃত হয়েছি। এ ধরনের ক্যাম্প গ্রামাঞ্চলের খামারিদের জন্য অনেক সহায়ক।”
চন্ডিপুর থেকে আসা নিয়ারা বেগম বলেন, “পশু চিকিৎসার জন্য অনেক সময় দূরে যেতে হয়। আজ বাড়ির কাছেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেয়েছি। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেঁচেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়ান মিয়া বলেন, “খোশালপুর এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে সাধারণ খামারিরা সহজেই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষ এ ধরনের সেবার আওতায় আসবে বলে আশা করছি।”
স্থানীয় খামারিদের বক্তব্যের পর উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শ্যামল কুমার চৌধুরী আবারও বলেন, “সরকারের প্রাণীসম্পদ সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন এবং খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।