শ্রীমঙ্গল–কমলগঞ্জের চা বাগানগুলোতে সকাল নামলেই কুয়াশার ভেতর দিয়ে কাজে বের হন হাজারো চা শ্রমিক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যাঁরা এই পাহাড়ি সবুজের ভেতর জীবন কাটাচ্ছেন, উন্নয়ন ও অধিকার তাঁদের কাছে এখনও অনেকটাই দূরের স্বপ্ন। এমন বাস্তবতায় মৌলভীবাজার-৪ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী প্রীতম দাশের নির্বাচনী প্রচারণা চা শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট, লাখাই ও বিলাসছড়া চা বাগান এবং কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই চা বাগানে গণসংযোগকালে প্রীতম দাশ চা শ্রমিকদের ভূমির অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নটি সামনে আনেন। চা বাগানের ভেতর ছোট ছোট পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার গল্প।

কালিঘাট চা বাগানের শ্রমিক রাধা রানী দাশ বলেন,‘আমরা সারাদিন পাতা তুলি, কিন্তু নিজের বলে এক টুকরো জমিও নেই। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সব সময় ভয় কাজ করে। প্রীতম দাশ যদি সত্যিই আমাদের জমির অধিকার নিশ্চিত করেন, তাহলে আমরা প্রথমবারের মতো মানুষ হিসেবে বাঁচার সুযোগ পাব।’
লাখাই চা বাগানের প্রবীণ শ্রমিক শিবু উড়াঁও বলেন, ‘অনেক নেতা আসে, কথা বলে, ছবি তুলে চলে যায়। কিন্তু উনি (প্রীতম দাশ) আমাদের ঘরে ঢুকেছেন, বসে কথা শুনেছেন। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতির কথা বলেছেন—এটা আমরা আগে দেখিনি।’
প্রীতম দাশ মুঠোফোনে বলেন, ‘চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী যুগের পর যুগ অবহেলিত। নির্বাচিত হলে তাঁদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।’