মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কারাবাস ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার জীবন ও সম্পর্কের চিত্র পাল্টে দিয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার, কারাজীবন এবং মুক্তির পর মানুষের আচরণ—সব মিলিয়ে এই সময়টাকে নিজের জীবনের সবচেয়ে শিক্ষণীয় অধ্যায় হিসেবে দেখছেন তিনি।
২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০২৫ সালের ১৮ মে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নুসরাত ফারিয়া জানান, কারাবাসের সময় অচেনা মানুষদের মানবিক আচরণ তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তার ভাষায়, কারাগারের ভেতরে যাদের তিনি কখনো চিনতেন না, তারাই তাকে খাবার দিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন। চোখের পানি থামেনি, কিন্তু পাশে দাঁড়িয়েছে মানুষ।
এই অভিজ্ঞতার প্রভাব পড়ে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কেও। কারামুক্তির পর প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দূরে সরে যান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও মুছে যায় একসময়কার সম্পর্কের চিহ্ন। অভিনেত্রীর ভাষায়, এই সময়েই তিনি বুঝেছেন, কে আপন আর কে পর।
বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাকে। শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানালেও, এই ঘটনার পর অনেকে তাকে নিয়ে কাজ করতে দ্বিধায় আছেন বলেও জানান নুসরাত ফারিয়া।
স্বল্প সময়ের কারাবাস হলেও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। নুসরাত ফারিয়ার জীবনে এই ৪৮ ঘণ্টা হয়ে উঠেছে মানুষ, সম্পর্ক ও বাস্তবতার নতুন পাঠ।