বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
কমলগঞ্জে ১৭ ফুটের অজগর উদ্ধার রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল কমলগঞ্জে ‘আলোর পথ ইসলামি ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে জনমতের ওপর গুরুত্বারোপ উপজেলা সদর গ্রুপ কমিটির নির্বাচন ঘিরে ছলিমবাজারে শ্রমিকদের সঙ্গে তারেক মিয়ার মতবিনিময় সভা শ্রীমঙ্গলে ১ লাখ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এমপি “হাজি মুজিব “ কমলগঞ্জে ১,২০০ ফলন্ত কমলা গাছ কাটার ঘটনায় উচ্চতর তদন্ত কমিটির সরেজমিন পরিদর্শন চা শ্রমিকদের মজুরি ৫০০ টাকা ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে ১৮ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার সীমান্তে নিহত মুজিবুরের পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা

বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে চা শিল্পে ধস, কমলগঞ্জে কোটি টাকার ক্ষতি

রিপোটার : / ১০৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬


কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মৌসুমের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চা শিল্প। বিশেষ করে ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) পরিচালিত একাধিক চা বাগানে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড় ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে। এতে এনটিসির আওতাধীন পাত্রখোলা, মাধবপুর, মদনমোহনপুর, কুরমা ও চাম্পারায় অবস্থিত পাঁচটি চা বাগানের কারখানা কার্যত অচল হয়ে যায়। ফলে শ্রমিকদের সংগ্রহ করা বিপুল পরিমাণ কাঁচা চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব না হওয়ায় নষ্ট হয়ে পড়ে।
তথ্যমতে, মাত্র পাঁচ দিনের বিদ্যুৎ সংকটে প্রায় ৬০ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা বিনষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকার বেশি। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আরও প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয় প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকা।
মাধবপুর চা বাগানের ফ্যাক্টরি কেরানি লক্ষ্মী নারায়ণ কৈরী বলেন, “টানা কয়েকদিন বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানা বন্ধ রাখতে হয়েছে। শ্রমিকদের সংগ্রহ করা পাতাগুলো আমাদের চোখের সামনেই নষ্ট হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।”
একই বাগানের ব্যবস্থাপক দিপন কুমার সিংহ জানান, শুধু মাধবপুর বাগানেই প্রায় ৩৫ হাজার কেজি কাঁচা চা পাতা নষ্ট হয়েছে, যা থেকে প্রায় ৮ হাজার কেজি প্রক্রিয়াজাত চা উৎপাদন সম্ভব ছিল। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নির্ধারিত ৭৫ লাখ কেজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
পাত্রখোলা চা বাগানের ব্যবস্থাপক ইউসুফ খাঁন বলেন, “দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে কারখানায় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার কেজি কাঁচা পাতা পড়ে আছে, যা দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”
এদিকে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চা নিলাম বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বছরের প্রথম নিলামে দেড় কোটি টাকার চা বিক্রি হলেও আসন্ন দ্বিতীয় নিলামের জন্য মাত্র ১২-১৩ হাজার কেজি চা সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
ন্যাশনাল টি কোম্পানির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “চায়ের ভরা মৌসুমে এমন বিদ্যুৎ সংকট আমাদের জন্য বড় ধাক্কা। উৎপাদন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর