বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
মৌলভীবাজারে ১৮ পদে নিয়োগ পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর, দালাল থেকে সতর্ক করল প্রশাসন মৌলভীবাজারে পলিথিনবিরোধী অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা শ্রীরামপুর নয়াবাজারে আল ইকরা ইসলামি কিন্ডারগার্টেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মৌলভীবাজারে চুরি যাওয়া দুই গরু উদ্ধার, পিকআপসহ আটক ৪ কমলগঞ্জে ছুটি শেষের ২৬ দিনেও কর্মস্থলে ফেরেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীমঙ্গলে বসতঘরের পাশ থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জালে আটকে পড়া অজগর উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কবি আবদুল হাই ইদ্রিছী সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বক্তব্য কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব, মাছ ধরতে মানুষের ঢল

আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে: শফিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট / ৬২ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা চাই না শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে, রাণীর ছেলে রাজা হবে। আমরা চাই, আমার একজন শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয়, রাষ্ট্র তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে, সে একদিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবে।

সিলেট বিভাগী নির্বাচনী প্রচারকালে নিজের জন্মভূমি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

শনিবার, (০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা শহরের নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মৌলভীবাজার-৪ আসনে মনোয়ন প্রত্যাহারকারী সিলেট মহানগর জামায়াতের নেতা এডভোকেট আব্দুর রব। এর আগে সকালে হবিগঞ্জের নিউফিল্ড মাঠে সিলেট বিভাগের প্রথম সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। হবিগঞ্জ থেকে জামায়াত আমির কুলাউড়ায় নির্বাচনী সমাবেশ করে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কুলাউড়ার জনসভায় বলেন, গণভোট হচ্ছে বাংলাদেশ বদলে দেয়ার ভোট। হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী। এরআগে হবিগঞ্জের জনসভায় গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে পচা রাজনীতির ধারা পাল্টে যাবে। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে। হ্যাঁ ভোট পরাজিত হলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। মহান আল্লাহ যেন ‘হ্যাঁ’কে সম্মানজনক ভাবে জয়যুক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিতে পারবো না। যুবকদের বেকার নয়, স্বকার (কর্মক্ষম) হিসেবে গড়বো। যুবকরা চায় তাদের হাতকে মূল্যায়ন করা হউক। কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ার মাধ্যমে তাদের হাতে কাজ দেয়া হবে। তারা মা-বাবা নিয়ে কাজ করবে আর বলবে এটা আমার বাংলাদেশ। আমরা সেই বাংলাদেশ চাই।

জামায়াত আমির বলেন, চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারে আমার জন্ম। আমি চা শ্রমিক ভাইদের কথা কখনোই ভুলি না। তাদের জন্য দুইটি জিনিস সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। একটা সুস্বাস্থ্য, আরেকটি সুশিক্ষা। তাদের ভোটে যদি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকেন তবে তাদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব বাগান মালিককে নিতে হবে কেন? এ দায়িত্ব অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, প্রবাসি অধুষিত এই সিলেট, কুলাউড়া, মৌলভীবাজার। প্রবাসীরা জীবন জীবিকার তাগিদে প্রবাসে যান। দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। কিন্তু যদি কেউ প্রবাসে ইন্তেকাল করেন তাহলে অযতেœ অবহেলায় তার লাশ পরে থাকে। আমরা দোয়া করি সব প্রবাসী সুস্থ থাকুন। আল্লাহর ইচ্ছায় প্রবাসে কোন প্রবাসি মারা গেলে এবং আমরা দায়িত্ব পেলে রাষ্ট্র নিজ দায়িত্বে এসব লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। ঐ শ্রমিক যে টাকা খরচ করে বিদেশে গেলে সে টাকা রোজগার করে না থাকলে রাষ্ট্র তার পরিবারকে দেখার দায়িত্ব নেয়ার ব্যবস্থা করবো।

তিনি বলেন, যেখানে চাঁদাবাজ তে অতিষ্টি জনগণ, যেখানে মায়ের সম্মান নেই, যেখানে মায়েরা-মেয়েরা- বোনেরা অনিরাপদ, যেখানে মামলা বাণিজ্য হয়, দুর্নীতি হয়- আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। আমরা এই বাংলাদেশ বদলে দিতে চাই। এই বাংলাদেশ বদলে দেয়ার দিন হচ্ছে আগামী ১২ তারিখ।

এর আগে হবিগঞ্জের সমাবেশে জামায়াত আমির চাঁদাবাজী প্রসঙ্গে বলেন, আমরা দেশ পরিচালনা সুযোগ পেলে চাঁদাবাজের হাত বন্ধ করে দিব। রাজনীতিকে যারা পেশা হিসেবে নিয়েছেন দুর্নীতি, চাঁদাবাজী তারাই করে। আমরা রাজনীতিকে পেশা নয়, সেবা হিসেবে নিয়েছি।

বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থা বদলে দেয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে আইন হবে সবার জন্য সমান। আমরা অনেক কথা শুনি কিন্তু বাংলাদেশে আইন সবার জন্য সমান নয়। যার প্রভাব আছে, অর্থের জোর আছে, আইন তার পক্ষে কথা বলে। আমরা ঐ আইন মাটির নিচে পাঠাতে চাই। একটি অপরাধে একজন সাধারণ মানুষের যে আইনে বিচার হবে, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীরও একই আইনে বিচার হবে।

তিনি বলেন, আমরা বিনা টেক্সে গাড়ি নেব না। হয় টেক্স দিয়ে গাড়ি কিনবো, না হয় রিক্সায় চড়ে চলাফেরা করবো। না পারলে পায়ে হাটবো।

উল্লেখ্য, জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায়।

মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের মধ্যে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের জামায়াতের দলীয় প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এবং মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের প্রার্থী মো. সায়েদ আলীর হাতে দাড়িপাল্লা প্রতীক দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান। তবে জেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুল মান্নান মৌলভীবাজার-৩ (মৌলভীবাজার সদর-রাজনগর) আসনে দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও তিনি মঞ্চে ছিলেন না। মৌলভীবাজার -৩ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হচ্ছেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা আহমদ বেলাল। কিন্তু স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাধার কারণে নির্ধারিত দিনে আব্দুল মান্নান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি এবং তিনি দাড়িপাল্লা নিয়ে সরব প্রচারণা চালাচ্ছেন। মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে জামায়াত নির্বাচন করছে না। তবে এ আসনে জামায়াত নেতৃৃত্বাধীন জোটের এনসিপির প্রীতম দাশ ও খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ফলে মৌলভীবাজার-৩ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের কোনো প্রার্থী জামায়াত আমিরের সমাবেশ মঞ্চে ছিলেন না।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর