কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে কয়েকদিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও একজন অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার আরেক আসামি কবির (৩০)কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ আহমেদের সঙ্গে মুঠোফোনে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৌশলে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে বের করে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি বাড়িতে তাকে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন করা হয়। পরে ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তার ওপর আরও নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রেখে নির্যাতনের ফলে শিক্ষার্থীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে তাকে ফেলে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলা রুজুর পর কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কমর উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। প্রায় ২০ ঘণ্টার অভিযানে ২১ সেপ্টেম্বর ভোরে সদর উপজেলার কলিমাবাদ ও গিয়াসনগর এবং রাজনগরের গাঙপার এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিন বলেন, “মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।