মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীরামপুর নয়াবাজারে আল ইকরা ইসলামি কিন্ডারগার্টেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মৌলভীবাজারে চুরি যাওয়া দুই গরু উদ্ধার, পিকআপসহ আটক ৪ কমলগঞ্জে ছুটি শেষের ২৬ দিনেও কর্মস্থলে ফেরেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীমঙ্গলে বসতঘরের পাশ থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার শ্রীমঙ্গলে জালে আটকে পড়া অজগর উদ্ধার, বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর মুমিনুল হক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন কবি আবদুল হাই ইদ্রিছী সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম রুমনের বক্তব্য কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব, মাছ ধরতে মানুষের ঢল শ্রীমঙ্গলে লোকালয় থেকে অজগর উদ্ধার, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত কমলগঞ্জে বসতঘরে আগুন, ১০ হাজার টাকার ক্ষতির অভিযোগ

কমলগঞ্জে ছুটি শেষের ২৬ দিনেও কর্মস্থলে ফেরেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক

রিপোটার : / ৯৫ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ চিকিৎসাজনিত দুই মাসের ছুটি শেষ হওয়ার পরও কর্মস্থলে যোগদান করেননি। গত ১ অক্টোবর তাঁর বিদ্যালয়ে যোগদানের কথা থাকলেও ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে।

বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ হোসাইন আহমেদ গত ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটিতে ছিলেন। ছুটি শেষে ১ অক্টোবর তাঁর কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। তবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি। অর্থাৎ ছুটি-পরবর্তী ২৬ দিন ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ছাড়া তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সহকর্মীরা।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়টি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পাল। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোনো দায়িত্ব লিখিতভাবে বুঝিয়ে না দিয়েই অনুপস্থিত রয়েছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, তারা প্রায় আড়াই মাস ধরে প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে দেখেনি। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে পাঠদান কতটা ব্যাহত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের ভাষ্য, প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারকিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা প্রতিমা সিনহা বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রথমে এক মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। পরে আরও এক মাসের ছুটি নেন। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার পরও তিনি বিদ্যালয়ে আসছেন না।

সহকারী শিক্ষিকা জেবিন আক্তার সিদ্দিকী জানান, প্রধান শিক্ষক চিকিৎসাজনিত কারণে দুই মাসের ছুটি নিয়েছিলেন। ছুটি শেষ হলেও তিনি যোগদান করেননি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হচ্ছে না, কারণ মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

সহকারী শিক্ষিকা সবিতা কৈরী জানান, তিনি গত ৮ অক্টোবর অন্য জেলা থেকে এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন। যোগদানের সময় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাননি। পরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পালের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে যোগদান করেন।

সহকারী শিক্ষিকা সুচন্দা পাল বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাঁকে লিখিতভাবে কোনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে তাঁকে নিয়মিত উপজেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক পাঠদান ও বিদ্যালয়ের কার্যক্রম তদারকিতে সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে তিনি গত ৮ অক্টোবর কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

তবে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান অভিভাবক সদস্য সালেহ আহমেদ দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক তাঁর উপস্থিতিতে একজন সহকারী শিক্ষককে দাপ্তরিক কাজের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁরও আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সোমা ভট্টাচার্য জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের সরকারি ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ১ অক্টোবর থেকে তাঁর কর্মস্থলে যোগদান করার কথা থাকলেও তিনি যোগদান করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহমান বাবর জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দুই মাসের ছুটিতে ছিলেন। তবে বিধি অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক অনুমতি ছাড়া টানা ৬০ দিন অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।

একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা, দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, দায়িত্ব বণ্টন ও শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় ছুটি-পরবর্তী অনুপস্থিতির কারণ যাচাই, দায়িত্ব হস্তান্তরসংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনা এবং বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রশাসন দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে, এমন প্রত্যাশা স্থানীয় অভিভাবকদের।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর