আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ ধরনের বর্জনীয় কাজের তালিকা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী, এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, উপঢৌকন বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করা যাবে না। প্রার্থীদের সঙ্গে ছবি তোলা, ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতা কিংবা প্রকাশ্য যোগাযোগ থেকেও বিরত থাকতে হবে। ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে অযথা হস্তক্ষেপ করা নিষিদ্ধ।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা যাবে না এবং কোনো ভোটারকে নির্দিষ্ট প্রার্থী বা প্রতীকের পক্ষে-বিপক্ষে প্রভাবিত করা যাবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ থেকেও বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল, কার্যালয় বা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পক্ষপাতমূলক আচরণ, রাজনৈতিক মত প্রকাশ, গালিগালাজ বা হুমকিমূলক আচরণও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ভোটের দিন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক পোস্ট-কমেন্ট বা শেয়ার করা যাবে না। নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ বা ফলাফল সম্পর্কে পূর্বানুমানমূলক মন্তব্য করাও নিষিদ্ধ।
দায়িত্বকালে জনসমাগমস্থলে অযথা অবস্থান, টং দোকান বা ফুটপাতে বসা, অপ্রয়োজনে ছবি-ভিডিও ধারণ ও শেয়ার, ব্যক্তিগত আলাপে মশগুল হওয়া বা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অশোভন পোশাক বা অপেশাদার আচরণ এবং দায়িত্বকালীন সময় মুখরোচক খাবার গ্রহণ না করতেও বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনকালীন আইন ও বিধিমালার পরিপন্থী কোনো আদেশ পালন করা যাবে না। নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এসব কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।