ঢাকা থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেন ‘উপবন এক্সপ্রেস’-এর ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাময়িকভাবে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকা পড়ে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে প্রায় তিন ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ ও শমশেরনগর রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী পূর্ব কালিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির ইঞ্জিন থেকে মবিল লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন ইঞ্জিনজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে চালক দ্রুত ট্রেন থামিয়ে দেন। আকস্মিক এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় এবং তারা দ্রুত নেমে নিরাপদ স্থানে সরে যান। তবে রেলকর্মী ও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পরপরই সিলেটের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে পথে থাকা ও স্টেশনে অবস্থানরত ট্রেনগুলো আটকে পড়ে, ফলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়ে। খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ এবং ভানুগাছ স্টেশন মাস্টার গৌরপ্রসাদ দাশ জানান, সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন এনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটি উদ্ধার করে শমশেরনগর স্টেশনে নেওয়া হয়। অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন দিয়েও উপবন এক্সপ্রেসকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যার কারণে কালনী এক্সপ্রেসের যাত্রা প্রায় এক ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।
রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল ও প্রকৌশলীদের টানা প্রচেষ্টায় সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে রেললাইন সম্পূর্ণ সচল হয়। এর পর থেকেই সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।