মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সফাত আলী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার কবরস্থানের পাশে ওয়াশরুমের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ট্যাংকটি অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার কবরস্থানের মাত্র প্রায় অর্ধ মিটার দূরত্বে একটি ওয়াশরুমের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এলাকাবাসী এটিকে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবিকতার পরিপন্থী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দেন।
প্রতিবাদকারীরা জানান, কবরস্থান কোনো সাধারণ স্থান নয়; এটি মৃতদের চিরনিদ্রার পবিত্র ঠিকানা। এমন স্থানের পাশে বর্জ্য নির্গমনকারী স্থাপনা নির্মাণ ভবিষ্যতে পরিবেশ দূষণ এবং কবরের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জানা গেছে, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফার দায়িত্বকালেই প্রকল্পটির টেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সে সময় তাদের আপত্তি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন। তিনি সরেজমিনে বিষয়টি বিবেচনা করে কবরস্থানের পাশের সেপটিক ট্যাংকের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার এবং তা নিরাপদ দূরত্বে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তারা কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন, যারা বিষয়টি জনসমক্ষে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও সামাজিক মূল্যবোধ বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে