মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় মণিপুরি মৈথৈ সম্প্রদায়ের প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যবাহী ‘লাই হরাওবা’ উৎসব শুরু হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলার আদমপুর তেতইগাঁওস্থ মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। তিনদিনব্যাপী এই আয়োজন আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে।
এবারের উৎসবকে ঘিরে দেশ-বিদেশের শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে এক প্রাণবন্ত পরিবেশ। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে আগত শিল্পী ও গবেষকদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ‘লাই হরাওবা’ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মণিপুরি জনগোষ্ঠীর আধ্যাত্মিক চর্চা, ঐতিহাসিক স্মৃতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ। ‘লাই হরাওবা’ শব্দের অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। সৃষ্টিতত্ত্ব, প্রকৃতি ও মানবজীবনের গভীর সম্পর্ক এই উৎসবের নানা আচার-অনুষ্ঠান, সংগীত, মন্ত্রপাঠ এবং মাইবী জাগোই নৃত্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়।
লাই হরাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ জানান, দেশের মণিপুরি সম্প্রদায়ের এই বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশের লক্ষ্যেই এ আয়োজন। এতে সহযোগিতা করছে ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। পাশাপাশি মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ পৌরৈ অপোকপা মরূপ, সাধন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠনও যুক্ত রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় এই উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তারা আশা করছেন, সকল শ্রেণিপেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।
উৎসব ঘিরে স্থানীয় পর্যটন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন আয়োজন মণিপুরি সংস্কৃতির বিকাশের পাশাপাশি দেশের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।