কমলগঞ্জের ধলাই নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একজনের কারাদণ্ড ও চারটি ট্রাক জব্দের ঘটনা প্রশাসনিক তৎপরতার পরিচয় দিলেও, প্রশ্ন উঠেছে—এতে কি সত্যিই বন্ধ হবে দীর্ঘদিনের বালু সিন্ডিকেট?
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রানীরবাজার এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে মালিক মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অবৈধ বালু পরিবহনে ব্যবহৃত চারটি ট্রাক জব্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ধলাই নদীর এই অংশে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী একটি চক্র নিয়মিত বালু উত্তোলন করে আসছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনিক অভিযান হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জমি এবং পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে সচেতন মহলের মতে, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়—প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ এবং বালু সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। অন্যথায় এমন অভিযান কেবল সাময়িক ভয় তৈরি করলেও, সমস্যার শিকড় অক্ষতই থেকে যাবে।