কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মণিপুরি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী বিষু উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। মণিপুরি থিয়েটারের উদ্যোগে উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের নটমণ্ডপ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই উৎসব শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টায় সমাপ্ত হয়।
১৭ ও ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানমালায় শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে মঞ্চ হয়ে ওঠে নৃত্য, সঙ্গীত ও নাট্যকলার এক মিলনস্থল। সমাপনী দিনেও দর্শকদের উপচে পড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘কর্মফল’ অবলম্বনে মণিপুরি থিয়েটারের নাটক ‘খেন্তাম’। পাশাপাশি সায়িক সিদ্দিকীর রচনা ও নির্দেশনায় লোকনাট্য ‘জয়তুন বিবির পালা’ দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। গ্রামীণ জীবনের আবেগ, প্রেম ও আত্মপরিচয়ের গল্পভিত্তিক এই পালানাট্য উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করে।
এছাড়া চা-জনগোষ্ঠীর শিল্পীদের পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী দণ্ডনাট, মণিপুরি ও লোকজ নৃত্য-সংগীত, পালাগান, ঋতুবন্দনা, সিনেমা প্রদর্শনী এবং নিকন খেলা প্রতিযোগিতা আয়োজনকে করে তোলে বৈচিত্র্যময়। সমাপনী দিনে শিল্পীদের পরিবেশনায় সুর, তাল ও নৃত্যের সমন্বয়ে দর্শকরা অনুভব করেন মণিপুরি সংস্কৃতির গভীরতা ও সৌন্দর্য।
মণিপুরি থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক শুভাশিস সিনহা বলেন, এই উৎসব কেবল বিনোদন নয়, বরং মণিপুরি ও বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে শেকড়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো অটুট।
তিনি আরও জানান, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে মণিপুরি থিয়েটার ধারাবাহিকভাবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই উৎসব আয়োজন করে আসছে। তবে বৃহৎ পরিসরে আয়োজন করতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের উত্তরীয় ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। শেষ সংগীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হলে দর্শকদের মধ্যে একদিকে বিদায়ের আবেগ, অন্যদিকে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা লক্ষ্য করা যায়।
সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সম্প্রদায়ের ঐক্য গড়ে তুলতে এই আয়োজন ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।