কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তরুণ নাশিদ শিল্পী হাফিজ সাইফুর রহমান ইসলামিক সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলছেন। হাফিজ সাইফুর রহমান কমলগঞ্জ উপজেলার চিৎলীয়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পিতা মো. আজাদ মিয়া।
নাশিদ, তিলাওয়াত, কিরাত ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে পরিচিতি লাভ করেছেন।
সাইফুর রহমান ২০১৩ সালে কমলগঞ্জ উপজেলার চিৎলীয়া এলাকার শাহ জালাল দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মডেল মাদ্রাসা থেকে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট থেকে কিরাত শিক্ষা লাভ করেন এবং ক্বারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেছেন মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে। বর্তমানে মৌলভীবাজার টাউন কামিল সিনিয়র মাদ্রাসায় কামিল (হাদিস) বিভাগে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
ছোটবেলা থেকেই নাশিদ ও গজলের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল। বড় ভাই আতাউর রহমান সুমনের কাছ থেকে প্রাথমিক তালিম গ্রহণের পর তিনি ইসলামিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘রিসালাহ’-এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও কবি মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুলের সান্নিধ্যে দীর্ঘদিন কাজ করেন। এর মাধ্যমে তাঁর সাংস্কৃতিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হয়।
রিসালাহ’র ব্যানারে তিনি ‘দে আগুন দে’, ‘আসুক না যত বাধা’, ‘মারহাবা মারহাবা’, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’, ‘রহম খুঁজে পাই’ ও ‘জাগরে ঈমানদার’সহ একাধিক নাশিদে কণ্ঠ দিয়েছেন।
বর্তমানে জেলার বিভিন্ন ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মাহফিল ও ধর্মীয় আয়োজনে নিয়মিত নাশিদ পরিবেশন করছেন তিনি। বিশেষ করে উর্দু নাশিদ পরিবেশনায় তাঁর স্বকীয়তা শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছে।
তাঁর শিল্পীজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো পাকিস্তানের খ্যাতিমান নাশিদ শিল্পী ইয়াসির সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে যৌথভাবে নাশিদ পরিবেশন। তাঁদের কণ্ঠে প্রকাশিত কয়েকটি উর্দু নাশিদ শ্রোতামহলে প্রশংসিত হয়েছে।
সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত। বর্তমানে আল-খিদমাহ ইসলামিক সোসাইটি (চিৎলীয়া)-এর সহ-সভাপতি এবং ৩৬০ আউলিয়া স্মৃতি কাফেলার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।