কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
কখনো বাঁশের বেড়া, কখনো টিনের জরাজীর্ণ ঘর। বর্ষায় বৃষ্টির পানি আর ঝড়ে ঘর হারানোর শঙ্কা ছিল নিত্যসঙ্গী। দীর্ঘদিনের সেই অনিশ্চয়তা পেরিয়ে এবার স্থায়ী ঠিকানা পেলেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ১৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন চা শ্রমিক পরিবার।
বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে ‘চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মডেল আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এসব ঘরের চাবি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে চা শ্রমিক পরিবারের হাতে ঘরের চাবি তুলে দেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চা বাগানের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে প্রকল্পটির আওতায় প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৬টি চা শ্রমিক পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।
চা শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা বাগানে বসবাস করলেও নিজেদের জমি কিংবা নিরাপদ ঘর ছিল না অনেক পরিবারের। পুরোনো টিন ও বাঁশের বেড়ার ঘরেই কেটেছে বছরের পর বছর। বর্ষা এলে বৃষ্টির পানি ও ঝড়ের সময় ঘর টিকিয়ে রাখার দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যেত। নতুন ঘর পাওয়ায় সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে জানান তারা।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদার বলেন, দেশের একজন মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে কমলগঞ্জের প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় ১৬টি চা শ্রমিক পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। নিরাপদ আবাসন তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
ঘরের চাবি হাতে পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন উপকারভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার পর নিরাপদ একটি ঠিকানা পাওয়ায় তারা সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল নাঈম, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ মিয়া, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দুরুদ আহমদ, কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অলি আহমদ খাঁন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শোয়েব আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।