কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
ভাষা আন্দোলন থেকে গণআন্দোলন, চা শ্রমিকের অধিকার থেকে কৃষকের মুক্তির সংগ্রাম। জীবনের দীর্ঘ সময়জুড়ে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন কমরেড মফিজ আলী। রাজনীতি, শ্রমিক আন্দোলন, সাংবাদিকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা এই সংগ্রামী নেতার ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ শনিবার (১০ অক্টোবর)।
১৯২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধূপাটিলা গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মফিজ আলী। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা কিংবা পারিবারিক স্বাচ্ছন্দ্যের চেয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য।
কমরেড মফিজ আলী বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, শ্রীমঙ্গলের বালিশিরাসহ বিভিন্ন কৃষক আন্দোলন এবং চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি নেতৃত্ব দেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি লেখালেখি ও সাংবাদিকতায়ও তাঁর ছিল সক্রিয় ভূমিকা। দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ, সাপ্তাহিক জনতা, লাল বার্তা ও ইংরেজি দৈনিক ডন পত্রিকায় তিনি লেখালেখি করেছেন। শিক্ষকতা পেশার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ।
সংগ্রামী জীবনের কারণে ১৯৫৪, ১৯৬০, ১৯৬৪, ১৯৬৫, ১৯৬৭, ১৯৬৯ ও ১৯৭২ সালে বিভিন্ন মামলায় তাঁকে কারাবরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। তবুও শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে সরে আসেননি।
২০০৮ সালের ৩০ আগস্ট কুলাউড়ায় একটি কৃষক সভা থেকে ফেরার পথে নিজ বাড়ির সামনে দুর্ঘটনার শিকার হন মফিজ আলী। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ১০ অক্টোবর ভোররাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে শ্রমিক-কৃষক আন্দোলনের অঙ্গনে এক সংগ্রামী নেতার অধ্যায়ের অবসান ঘটে।
মফিজ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির উদ্যোগে আজ সকাল ৯টায় কমলগঞ্জের ধূপাটিলায় তাঁর সমাধিস্থলে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং তাঁর রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
মফিজ আলী দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি সাংবাদিক নূরুল মোহাইমীন মিল্টনের পিতা। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম শ্রমিক-কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।