কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে সাইনবোর্ড, ব্যানার ও বিজ্ঞাপন টাঙানোর ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারাভিযান চালিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গাছ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে গাছে গাছে পেরেক ঠুকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও ব্যক্তির বিজ্ঞাপন টাঙাতে দেখা যায়। এতে একদিকে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অন্যদিকে নষ্ট হয় সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিনা খরচে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে গাছকে ব্যবহার করার এ প্রবণতা পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানোর অপকারিতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে এ উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শাব্বির এলাহীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল নাঈম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আহমেদুজ্জামান আলম, আবৃত্তি অঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, কমলগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি কবি নির্মল এস পলাশ, দৈনিক জনতা পত্রিকার সাংবাদিক মো.সাইদুল ইসলাম ,কুরমা চা বাগান নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মনির উদ্দিন আহমেদ, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুস সালাম, বসুন্ধরা শুভসংঘের কমলগঞ্জ উপজেলা শাখার সহসভাপতি মোনায়েম খাঁন, শিক্ষক আশিষ চৌহান ও অনুজ কুমার সিংহসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, গাছেরও প্রাণ আছে, অথচ প্রচারণার জন্য গাছের গায়ে পেরেক ঠোকার সময় এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকেই বিবেচনায় নেন না। এতে গাছের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়। গাছে পেরেক ঠুকে বিজ্ঞাপন লাগানো বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।
তাঁরা আরও বলেন, গাছ অক্সিজেন সরবরাহসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের গায়ে পেরেক ঠোকা তার ক্ষতি করতে পারে এবং স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে। তাই গাছকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার না করে বিকল্প প্রচারপদ্ধতি বেছে নেওয়া উচিত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে জনসচেতনতার পাশাপাশি প্রচলিত আইন কার্যকর করাও জরুরি।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে স্থানীয় বাজারে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।