মৌলভীবাজার জেলার চা বাগান ও হাওরবেষ্টিত এলাকা নিয়ে গঠিত চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের ভূমিধস বিজয় হয়েছে।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ৪টি আসনের ফল ঘোষণার পর তার কার্যক্রম শেষ করেন। জেলায় ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ২৪ জন। মোট ভোটার ছিলেন ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, জেলায় ভোটকেন্দ্র ছিল ৫৫৮টি আর ভোট পড়েছে ৫১.২৭ শতাংশ। পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭৩৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছায় ১৬ হাজার ৮৬২ ভোট। বাতিল হয় ১ হাজার ৪৬৪ ভোট।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ২৮২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মাওলানা আমিনুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১৩ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১০ হাজার ৪৬৯, আর না পেয়েছে ৭৯ হাজার ৫২৭ ভোট।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শুকু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. সাহেদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৮৩ হাজার ৯৩০, আর না পেয়েছে ৬৭ হাজা ৯৩৫ ভোট।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেছেন সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের বড় ছেলে ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান। তিনি এর আগেও এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকে তার পাওয়া ভোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬৩৬ ভোট। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯১৬ ভোট, আর না পেয়েছে ৭৮ হাজার ৬৭১ ভোট।
মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) আসন দীর্ঘ ৩৫ বছর পর পুনরুদ্ধার করেন বিএনপির প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। তিনি ধানের শীষে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী শেখ নূরে আলম হামিদী দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ৫০ হাজার ২০৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৪২৮ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৩ ভোট।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নিজ জেলা ও উপজেলায় বিএনপির এ বিজয়কে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ বিজয়কে জেলায় জামায়াতের রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও বার্তা বলে মনে করছেন তারা।