শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সংবাদ শিরোনাম :
দলীয় কর্মসূচিতে অনুপস্থিতি, শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বহিষ্কার শ্রীমঙ্গলে শাবানা বেগম হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড শমশেরনগরে মুসলিম কিশোরীর হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে দেশের জন্য ১৮ বছরেই আত্মত্যাগ, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানকে স্মরণ মৌলভীবাজারে ১৮ পদে নিয়োগ পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর, দালাল থেকে সতর্ক করল প্রশাসন মৌলভীবাজারে পলিথিনবিরোধী অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা শ্রীরামপুর নয়াবাজারে আল ইকরা ইসলামি কিন্ডারগার্টেনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মৌলভীবাজারে চুরি যাওয়া দুই গরু উদ্ধার, পিকআপসহ আটক ৪ কমলগঞ্জে ছুটি শেষের ২৬ দিনেও কর্মস্থলে ফেরেননি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্রীমঙ্গলে বসতঘরের পাশ থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার

বসন্তের আগুনরাঙা ছোঁয়ায় রঙিন কমলগঞ্জ

স্পেশাল প্রতিনিধি / ১০৭ বার দেখা হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

টুকটুকে লাল পলাশে রঙিন হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের ভেতর দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। বসন্তের হাওয়ায় দুলতে থাকা আগুনরাঙা ফুল জানিয়ে দিচ্ছে—প্রকৃতিতে এখন ভরা ঋতুর আবাহন।

উপজেলা পরিষদের প্রধান সড়কের পাশে দাঁড়ানো কয়েকটি পলাশগাছ যেন আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ছে। ফাল্গুন–চৈত্রের এই সময়ে গাছগুলো প্রায় পাতাশূন্য হয়ে ফুলে ভরে উঠেছে। লাল, হলুদ ও লালচে কমলা—পলাশের তিনটি প্রধান রঙের মধ্যে আগুনরাঙা কমলাই এখানে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে উঠেছে। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদের তাপে ফুলের রঙ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে; নিচে ঝরে পড়া পাপড়িতে লাল কার্পেটের মতো দৃশ্য তৈরি হয়।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই সড়কে ছবি তুলছিলেন সাংবাদিক ও লেখক পারভেজ আহমেদ। তিনি বলেন, “এই সড়কটির আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। প্রায় সারা বছরই এখানে কোনো না কোনো ফুল ফুটে থাকে। এখন পলাশ ফুটেছে। গাছের নিচে লাল ফুল বিছিয়ে থাকে,দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়।”

সড়কের পাশেই বসবাসকারী মুন্নী আক্তার জানান, ছয়–সাত বছর আগে উপজেলা পরিষদ এলাকায় পলাশগাছ লাগানো হয়। গত দুই বছর ধরে নিয়মিত ফুল দিচ্ছে গাছগুলো। তিনি বলেন, “গরমের সময় গাছের নিচে বসে থাকাও যায়। পলাশ এমনভাবে ফুটেছে যে দাঁড়ালেই বোঝা যায় বসন্ত এসেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, পলাশ মাঝারি আকারের একটি পর্ণমোচী বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Butea monosperma। গাছটি প্রায় ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফুলের দৈর্ঘ্য সাধারণত দুই থেকে চার সেন্টিমিটার। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ গাছের বিস্তৃতি রয়েছে।

কমলগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আলী মর্তুজা বলেন, “একসময় গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই পলাশ ও শিমুলগাছ দেখা যেত। নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বৃক্ষনিধন ও বীজ সংরক্ষণের অভাবে এখন এসব গাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে ঋতুগুলোর স্বকীয়তা কমে যাচ্ছে। ফলজ ও বনজ গাছের পাশাপাশি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণেও গুরুত্ব দিতে হবে।”

কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে আগুনরাঙা পলাশ তাই শুধু ঋতুর সৌন্দর্যই নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বসন্তের এই ক্ষণস্থায়ী রঙ যেন প্রকৃতির দীর্ঘস্থায়ী বার্তা হয়ে থাকে-এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


আরো সংবাদ পড়ুন...
এক ক্লিকে বিভাগের খবর